Posts

জনজাল

একটি দেশে যেকোনো শক্তিকে টিকে থাকতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন জনসমর্থন। জনগণের একটি অংশের সমর্থন ছাড়া কোনো সরকার যেমন টিকতে পারে না, তেমনি টিকতে পারে না এমনকি কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীও। পৃথিবীর যেকোনো জঙ্গিসংগঠনের ঠিকুজি খুঁজলে দেখা যাবে সংগঠনটির ওপর সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণের একাংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন আছে, নিদেনপক্ষে 'সফট কর্নার' আছে। স্বীকার করা হোক বা না হোক, তিক্ত সত্য হচ্ছে জঙ্গিদের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশের নীরব সমর্থন আছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের এই নীরবতাকে পুঁজি করেই জঙ্গিরা বাংলাদেশকে বাংলাস্তানে পরিণত করার সুযোগ পেল। বাংলাদেশ একদিন বাংলাস্তানে পরিণত হবে বলে যে আশঙ্কাটি শুভবুদ্ধি-সম্পন্ন মানুষেরা করে আসছিলেন এত দিন ধরে, সেই আশঙ্কা সত্য হয়েছে এবং গত পহেলা জুলাই রাত নয়টা থেকে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাস্তানে পা রেখেছে। 'বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো' বাগধারাটি মুসলমান বাঙালিদের জন্যই বোধহয় রচিত হয়েছিল। তারা জানেনই না কখন প্রতিবাদ করতে হবে, কখন নীরব থাকতে হবে। মুসলমান বাঙালিদের অ-সময়োচিত নীরবতাই বাংলাদেশের বাংলাস্তান হওয়ার পেছনে বহুলাংশে দায়ী। আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদ...

বাংলার কীর্তিকলাপ

আমার কাছে এক শিক্ষার্থী এসেছে। সে কোনো এক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছে। তার গবেষণার বিষয় সোশাল মিডিয়া। আমার কাছে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশের সোশাল মিডিয়া সম্পর্কে সে কিছু জানতে চায়। আমি তাকে খুবই যত্ন করে চা খাওয়ালাম। বাংলাদেশের চা। সে খুবই আগ্রহ নিয়ে চা খেলো। তার খাওয়া শেষ হওয়ার পর, আমি গলায় দুই লিটার বিনয় ঢেলে বললাম, বাংলাদেশের সোশাল মিডিয়া নিয়ে আমি কিছুই জানি না। সে খানিকক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর বলল, কিন্তু আমি তো শুনেছি তুমি ফেসবুকে খুব একটিভ। – ঠিকই শুনেছো। আমি যতক্ষণ সময় ফেসবুকে থাকি, ততক্ষণ সময় আমি আমি অফিস, সংসার, বাথরুম এমনকি বিছানায়ও থাকি না। আমার একটা ছোট্ট প্ল্যাস্টিকের ব্যাগ আছে। যখন শাওয়ার নিই, তখনও আমি ফেসবুকে চোখ রাখি। সেই ছোট্ট প্লাস্টিকের ব্যাগে আমার মোবাইল থাকে। পানিতে যাতে মোবাইল ভিজে না যায় এজন্য এই ব্যবস্থা। এই কথা শুনে তরুণ গবেষকটির চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। সে বলল, আমি তোমার এই ফেসবুক ব্যবহারের অভিজ্ঞতাটাই শুনতে চাই। এবার আমি গলায় দুই কেজি পরিমাণ কনক্রিট ঢেলে বললাম, সেই অভিজ্ঞতা আমার পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। স্যরি। তুমি এবার আসো। তোমার সাথে...

প্রিয় আনিসুল হক!

আনিসুল হকের একটি বিশেষ প্রতিভা নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেখলাম না। এই প্রতিভাকে বলে, কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট। দুইটা দল ঝগড়া করছে, তাদেরকে মিলমিশ করিয়ে দিতে তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন। এই রকম দুটি বড় ঘটনা দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিলো। ব্যান্ডসঙ্গীত তখন সবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। এই নতুন ধারার গান শুনে তরুণরা আত্নহারা। কিন্তু প্রবীণের মাথা ঝাঁকিয়ে বলছেন, গেলো গেলো, সব গেলো। আনিসুল একটি অভাবনীয় ব্যাপার ঘটালেন। টিভিতে একটি গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। যারা ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি পড়ে, পবিত্র শান্তিনিকেতনীয় ভাব নিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতসহ গেয়ে থাকেন, তাদেরকে তিনি ডাকলেন। আরেকদল আমন্ত্রণ পেলো। ঝাকড়া চুলের সানগ্লাস পড়া ব্যান্ডের গাতক-গাতিকাবৃন্দ। দুই দল পাশাপাশি বসে গানবাজনা করলো। মজার যেটা ব্যাপার ঘটলো, রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পীরা গাইলেন ব্যান্ডের গান। আর ব্যান্ডের ছোকড়ারা হারমোনিয়াম বাজিয়ে গাইলো রবীন্দ্রসঙ্গীত। এই আয়োজনের নাম দেয়া হলো- জলসা। অভূতপূর্ব এই অনুষ্ঠান দেখার পর দুই দলই খুবই সহজে বুঝে ফেললো, সুরের কোনো দল নেই। অহেতুক দলাদলি ব্যাপারটা কেবল মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। আরেকটি কান্ড তিনি করেছিলেন। তখন আওয়া...

এই জন্য আমি হাজারটা পথ হেঁটেছিলাম

একেকটি সাহিত্য-আসর একেকটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন-ব্যবস্থা। বিবিধ বৈশিষ্ট্যের বহুবিধ কবির দেখা মেলে সাহিত্য-আসরে। কবিতা শুনতে-শুনতে একপর্যায়ে ক্লান্তি এলেও এই বর্ণাঢ্য-বিদগ্ধ কবিদের বাহারি বৈচিত্র্য দেখে বলিহারি যেতে হয়, সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায় নিমিষেই। এই আসরে না গেলে টের পাওয়া যায় না শিল্পিত কবিতার পেছনের কারিগরেরা কতটা লোমহর্ষক, কতটা চাঞ্চল্যকর। সাহিত্য-আসরে আগত কবিদেরকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করা যায় তাদের চরিত্র ও বৈচিত্র্যের আলোকে। প্রত্যেকটি সাহিত্য-আসরে থাকে একটি করে গলাভাঙা গ্রুপ। এরা মঞ্চে এসে বক্তব্য শুরু করবেন এভাবে— 'আসলে আমার ঠাণ্ডা লেগেছে, গলাটাও ভেঙে গেছে। এই গলা নিয়ে আমি আপনাদেরকে কতটা ভালো আবৃত্তি উপহার দিতে পারব, জানি না। তবুও চেষ্টা করছি।' তাদের গলা অবশ্য বারো মাসই ভাঙা থাকে এবং প্রতিটি আসরে ভাঙা গলার কথা জাতিকে তারা সযত্নে স্মরণ করিয়ে দেন। ঐ ভাঙা গলা নিয়েই তারা যে পৌনঃপুনিক পদ্যতাণ্ডবের পরিচয় দেন, তাতে গলা ভাঙা না থাকলে কী যে হতো— ভাবতেই গা-হাত-পা শিউরে ওঠে। একটি করে তেলেগু গ্রুপ থাকে প্রতিটি আসরে। এই তেলবাজ গ্রুপটি সব কিছুতেই ধন্য বোধ করেন। এরা মঞ্চে উঠে প্রথমেই ব...
আদ্রিত মানে ভাইটি আমার, বন্ধু বারো মাস.. আদ্রিত মানে শীতল পাটি, বেচে থাকার আশ.. আদ্রিত মানে হাইওয়ে গুলো, দাপিয়ে কাপিয়ে ঘোরা, আদ্রিত মানে সিংহ হৃদয়, পুরোটা সোনায় মোরা.. আদ্রিত মানে সব বাধা কে, দুমড়ে মুচড়ে চলা.. আদ্রিত মানে রাতভর গান, খোলা দীল মিঠে গলা.. আদ্রিত মানে নীল সে আকাশ, দমকা ঝড়ো হাওয়া.. আদ্রিত মানে স্বাধীনতাটাকে, নতুন করে পাওয়া.. আদ্রিত মানে নতুন সূর্য, শুভ্র নতুন দিন.. আদ্রিত এক সুন্দর্যের নাম, মুখে হাসি অমলিন.. আদ্রিত ভাই শুভ জন্মদিন।

কিছু স্মৃতি

রোড আইল্যান্ড এর প্রভিডেন্স থেকে নিউইয়র্ক যাব..বাস স্টপে দাঁড়িয়ে আছি..ঘড়ির কাটা ধরে ঠিক ঠিক ১১.১০ মিনিটে পিটার প্যান বাস এসে থামল.. বাস থেকে নেমে এলো পাইলটের ড্রেস পড়া এক সুদর্শন ভদ্রলোক..মোবাইলে সেভ করে রাখা কনফার্মেশন নাম্বার দেখে হাসি মুখে একে একে সবাইকে বাসে তুলে নিলেন.. বাস চলতে শুরু করতেই শান্ত স্বরে বলতে শুরু করলেন, "শুভ সকাল..পিটার প্যান বাস সার্ভিসে তোমাদের স্বাগত জানাচ্ছি..এই কথাগুলো আমি সাধারনত টার্মিনালেই বলে থাকি, কিন্তু তোমরা যেহেতু মাঝরাস্তা থেকে উঠেছ, তাই তোমাদের জন্য আবার বলছি.. এই বাস কিন্তু নিউইয়র্ক যাবে, সো তোমরা আশা করি ঠিক বাসেই উঠেছ..নিউইয়র্ক যেতে সাধারনত ৪ ঘন্টার কিছু কম সময় লাগে ট্রাফিকের উপর ডিপেন্ড করে..তবে যেহেতু আজকে সোমবার, সপ্তাহের প্রথম উইকডে, আমার মনে হয় কিছুটা সময় বেশিই লাগবে.. বাসে প্লিজ ধুমপান করবে না..আর মোবাইলে যদি কথা বলতে হয় তবে একটু আস্তে বইল যাতে আশেপাশের কারো ডিস্টার্ব না হয়..তোমার কাছে যদি হেডফোন থাকে তবে খুব ভাল, নিজের গান নিজেই শুনতে পারবে..আর যদি না থাকে তবে মোবাইলের সেটিং এ গিয়ে ভলিউমটা কমিয়ে নিও.. আমি তোমাদের আরামের কথা ভেবে বাসের ...

ফকিরের রসত্ব

ফকির হয়ে সাহস এত, করব কী আজ তোরে; করব গুলি, উড়বে খুলি, পাঠিয়ে দেবো গোরে! নুন আনতে পান্তা ফুরায়, হারামজাদার জাত; বামন হয়ে চাঁদের দিকে বাড়াস কেন হাত? কাজের বেটির পুত্র হয়ে দেড়-দুবেলা খেয়ে, ভালোবাসার সাহস দেখাস চৌধুরীদের মেয়ে! এই ছোটলোক, জানিস কি তুই আমার মাসিক আয়? কয়শো-হাজার কর্মচারী আমার পরে-খায়? কয়েক পুরুষ খেলেও বসে শেষ হবে না ধন; মুকুটবিহীন রাজা আমি, আমিই দেশের ডন। ধনে-মানে আমার মতো রাষ্ট্রে আছে কজন? তোদের মতো চাকর-বাকর আমার কয়েক ডজন। ছয়টা বাঁদি আমার মেয়ের, সকাল-বিকাল সেবা; কয়টা আছে টয়টা আমার— হিশাব রাখে কে বা! জানিস কত খরচ করে আমার মেয়ে মাসে? গাড়ির মডেল পালটে দিলে তবেই খানিক হাসে। বান্ধবীদের সঙ্গে নিয়ে করতে গেলে চিল, খাওয়ার পরে শোধ করে সে লক্ষ টাকা বিল। মাসের শেষে বিদেশ যাবে, বিদেশ থেকেই বাজার; আমার মেয়ে রানির মেয়ে, আমার মেয়ে রাজার। পারবি কি তুই কিনতে কভু একটা গাড়ির চাকা? বংশ বেচেও পারবি দিতে মেকআপ কেনার টাকা? রাখবি কোথায় আমার মেয়ে? আছে কি তোর কিছু? কয় টাকাতে ছাড়বি, শুয়োর, আমার মেয়ের পিছু? কে দিয়েছে সাহস তোকে ঢুকতে বাড়ির ভিতর? কী আছে তোর? কী আছে তোর? হারামজা...
খুব ছোট্ট একটা ঘটনা বলি। আমার তখন কোনো চাকরি নেই। ইভা প্রতিদিন শার্ট ইস্ত্রি করে দেয়। আমি সেই ইস্ত্রি করা শার্ট পরে বের হই। চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। দিন শেষে ক্লান্ত এবং ভগ্ন হয়ে বাসায় ফিরি। ''ইভা , আমার চাকরি হয় নি।'' ইভার মন খারাপ হয়। আমাকে বুঝতে দেয় না। অতি গোপনে সে নফল নামাজ মানত করে। যাতে আমার কোনো চাকরি হয়। একদিন বাসায় ফিরে ইভাকে জড়িয়ে ধরলাম। আমার ছোট্ট বুকের মধ্যে দুলতে দুলতে ইভা বলল, তোমার চাকরি হয়েছে ? ওয়াও!!!কবে থেকে অফিস শুরু? বেতন কত? আমি মানবজমিন পত্রিকা থেকে ইন্টারভিউ দিয়ে ফিরেছি। না, আমার চাকরি হয়নি। তবে বাংলা মোটর থেকে সিগারেট কেনার সময় জানলাম, গোল্ড লিফ সিগারেটের দাম আড়াই টাকা থেকে কমে দুই টাকা হয়েছে। সেই আনন্দে ইভাকে জড়িয়ে ধরেছি। পুরো ঘটনা শুনে ইভা আপসেট হলো বটে। কিন্তু তারপরও, তারপরও বলল, ডোন্ট লুজ ইয়োজ ফেইথ। বিশ্বাস হারিও না। তারপর ইভা আমাকে গভীর একটা চুমু খেলো। আমিও চুমু খাবো এমন সময় আবিষ্কার করলাম আমি সপ্ন দেখছি। আমার সপ্ন, আমার বাড়ির বেড়াল ছানাটাও ভাগ্যবান কারণ তার ভাগের চুমুটা সে পাই। আমারটা আর আমি পাই না। ভালো কথা গোল্ডলিফের দাম কতো চলছে? সিগারেট...

রসহীন কষ

আমার স্ত্রীর নাম আপনাদের বলব না, বললে আপনারা তাকে চিনে ফেলতে পারেন। না-না, যা ভাবছেন, ঘটনা সেরকম না, ও সিনেমার নায়কা-টাকিয়া নয়, সামান্য একজন শিক্ষিকা মাত্র। একটা প্রতিবন্ধীদের স্কুলে পড়ায়। সাইকোলজির ছাত্রী ছিল। সেখানে ও দুর্দান্ত রেজাল্ট করেছিল, অনার্স মাস্টার্স দুটোতেই ফার্স্টক্লাস। বড় বড় চাকরির অফার থাকা সত্ত্বেও কোথায় জয়েন না করে, প্রতিবন্ধীদের সংস্পর্শে থেকে তাদের নিয় কিছু উচ্চতর গবেষণা করা। অতি সম্প্র ওর এমনই একটা গবেষণা আলোড়ন সৃষ্টি করায় পত্র-পত্রিকায় ছবি-টবি এসেছে। এজন্যই ওর নাম বলতে আমার দ্বিধা। অবশ্য গল্প যখন বলতে বসেছি, একটা নাম তো তার বলতে হবে । ধরা যাক, ওর নাম ইভা। গল্পটা হলো বিয়ের দুই বছর পর আমি হঠাৎ করে একজন ভদ্র মহিলার প্রেমে পড়েছি। কাহানিটা খোলসা করে বলা যাক। ইভা যে স্কুলে মাস্টারি  করে সেই স্কুলে সেদিন গিয়েছিলাম। প্রতিবন্ধীদের (পাগল বললে ইভা ভীষণ ক্ষেপে যায়, ওদেরকে প্রতিবন্ধী বললে ও খুশি হয়) স্কুল কেমন হয় এটা দেখার ইচ্ছা অনেক দিন থেকেই। কিন্তু ঠিক চান্স পাচ্ছিলাম না। বিয়ের পর বেশ কয়েকবার ওকে বলেছিলাম, তোমার স্কুলে একদিন বেড়াতে যবো। ও ভ্রু কুচঁকে বলেছিল, কেন, ওটা ক...
আমি জীবনে একবারই গরুর হাটে গিয়েছিলাম। তখন স্কুল থেকে সবে পাশ করেছি। কাকি আম্মা ডেকে পাঠালেন। কাকি আম্মার ডাক অগ্রাহ্য করার সাহস আমাদের কারোরই ছিল না। ড্রয়িংরুমে পারিবারিক মিটিং। আমি, আহাদ, রাহাত, ডাক্তার কাকা, বাবা, মা, রাশেদ কাকা। পারিবারিক বৈঠকের সভানেত্রী যথারীতি কাকি আম্মা। আমাদের গরু কিনতে যেতে হবে। অন্য কারো হাতে এবার দায়িত্ব দেয়া যাবে না। আমরা এতোগুলো পুরুষ মানুষ ঘরে বসে কি করি? গরুর হাটে যাবার কথা শুনে আব্বু মাথা চুলকাতে লাগলেন। ডাক্তার কাকা গভীর মনোযোগ দিয়ে খবরের কাগজের মধ্যে ডুব দিলেন। আমার মনে হলো এক্ষুণি একটা সিগারেট খাওয়া দরকার। কেবল আহাদ আর  রাহাত দুইজন দুইজনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে লাগলো। এই হাসির মানে আমি পরে বুঝেছি। কাকা মৃদুস্বরে বললেন, কিন্তু এতো দূর থেকে গরু নিয়ে আসবো ক্যামনে? কাকি আম্মা পরিষ্কার বলে দিলেন গরু বয়ে আনবার পদ্ধতি। গরুর পাশাপাশি রিকশা থাকবে। সেই রিকশায় থাকবেন আব্বু আর কাকা। গরুর দড়ি থাকবে তাদের হাতে। গরুর হাটবে, পাশাপাশি রিকশা চলবে। পুরো বিষয়টা আমি দিব্যচোখে দেখতে পেলুম। ঐরাবতের মতো গরু চলছে, পাশে রিকশায় বসা আব্বু আর কাকা। গরুর গলার দড়ি তাদের হাত...